২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ২১:০৬
মহিয়সী নারী হযরত খাদিজা (সা.আ.)/ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম নারী

দশই রমজান ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম নারী ও সর্বশেষ্ঠ নবীর প্রিয়তম সহধর্মিনী হযরত খাদিজা (সা. আ.)- এর ওফাত বার্ষিকী।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): হযরত খাদিজা (সা.আ.)-এর মর্যাদা এত বেশি মূল্যবান যে, আল্লাহ তাঁর আসমানী কিতাব তাওরাত যা হযরত মুসা (আ.) এর উপর নাজিল হয়েছিল, তাতে উল্লেখ করেছেন যে, "হযরত খাদিজার (সা.আ.) উপমা ঐ নদীর পানির সাথে যে পানি আবে হায়াত নামে প্রসিদ্ধ এবং যে নদীর দুই ধারে জীবন বৃক্ষ আছে, যে বৃক্ষের বারোটি ফল আছে আর ঐ বৃক্ষের পাতাগুলো হচ্ছে উম্মতের জন্য নিরাময় স্বরূপ।"

জীবন পরিচিতি

নাম: খাদিজা

উপাধি: মুবারাকাহ, তাহেরাহ, কুবরা।

উপনাম: উম্মে হিন্দ, উম্মুল মু'মিনীন, উম্মে জাহরা।

পিতা: খুয়াইলিদ বিন আসাদ

মাতা: ফাতিমা বিনতে যাসেম

জন্ম তারিখ ও স্থান: নবুয়্যত ঘোষণার ৫৫ বছর পূর্বে মক্কায়।

রাসূল (সা.)-এর সাথে বিবাহের তারিখ: ১০ই রবিউল আউয়াল, নবুয়্যত ঘোষণার ১১ বছর পূর্বে।

মৃত্যু তারিখ ও স্থান: নবুয়্যত ঘোষণার দশম বছরে ১০ই রমজান মক্কাতে মৃত্যুবরণ করেন। প্রকৃতার্থে তিনি শেবে আবু তালিবে (আবু তালিব উপত্যকাতে) ৩ বছর বন্দী অবস্থায় তার উপর যে অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছিল সে কারণে বলা যেতে পারে তিনি শাহাদতবরণ করেছেন।

মৃত্যুকালীন বয়স: ৬৫ বছর

পবিত্র মাজার শরীফ: মোয়াল্লা নামক কবরস্থানে যার অপর নাম আবু তালিবের কবরস্থান।

রাসূল (সা.)-এর সাথে জীবন যাপন কাল: প্রায় ২৫ বছর।

সন্তানাদি: ত্রমানুসারে কাসিম, আবদুল্লাহ যার উপনাম তাহির ও তায়্যেব, রুকাইয়াহ, যায়নাব, উম্মে কুলসুম, ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)।

হযরত খাদিজা (সা.আ.) ছিলেন অত্যন্ত ধৈয্যশীল ও সহিষ্ণু। সর্বশেষ নবী রাসূল (সা.)-এর প্রতি তার পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। এ কারণে নবুয়্যত প্রাপ্তির আগে ও পরে রাসূলের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে তিনি সর্বদায় সচেষ্ট ছিলেন।

কোন কারণে রাসূল (সা.)- এর মন খারাপ থাকলে তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতেন। রাসূলের সকল কাজে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। বলতে গেলে হযরত খাদিজা ছিলেন, রাসূলের এক যোগ্য উপদেষ্টা।

ইবনে হেশাম লিখেছেন, হযরত খাদিজা রাসূলের প্রতি ঈমান আনেন। রাসূলের বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং তাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা দেন।

আল্লাহ তায়ালা হযরত খাদিজা (সা.আ.)-এর মাধ্যমে তাঁর রাসূলকে প্রশান্তি দিতেন। নবীজির কানে কখনোই দু:সংবাদ পৌছানো হতো না যতক্ষণ না পর্যন্ত আল্লাহ খাদিজার মাধ্যমে ঐ খবর শ্রবনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতেন।

ইসলামের অগ্রগতির ক্ষেত্রে হযরত খাদিজা (সা.আ.)-এর ধন-সম্পদের ভূমিকা

 হযরত খাদিজা (সা.আ.) রাসূলের (সা.) সাথে পরিচয় হওয়ার পূর্বেও আরবদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ধণাঢ্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার প্রায় সত্তর হাজার উট ছিল ও বাণিজ্য কাফেলাগুলি দিবা-রাত্রি তায়েফে, ইয়েমেনে, শামে (সিরিয়ায়), মিশরে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রে বাণিজ্যিক লেন-দেন করতো, তার অনেকগুলি ক্রীতদাস ছিল যারা তার ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল।

হযরত খাদিজা (সা.আ.)-এর বিস্ময়কর আত্মত্যাগসমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে রাসূলের (সা.) সাথে বিবাহের পর ইসলাম পূর্ব ও ইসলাম পরবর্তী যত সম্পদ ছিল সমস্ত সম্পদ রাসূলের (সা.) অধীনে দিয়ে দিয়েছিলেন যাতে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে তিনি সেগুলিকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে পারেন।

রাসূল (সা.) সর্বদা হযরত খাদিজাকে (সা.) স্মরণ করতেন

 হযরত খাদিজা (সা.আ.) নবুয়্যত ঘোষণার দশ বছর পর ইন্তেকাল করেন, রাসূল (সা.) তার ইন্তেকালের দশ বছর অথবা তার কিছু বেশী দিন যাবৎ জীবিত ছিলেন।

এই সময়গুলিতে নবীজি সারাক্ষণ হযরত খাদিজাকে (সা.আ.) স্মরণ করতেন, তাঁর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করতেন। কখনো কখনো এমনও হয়েছে যে, তিনি হযরত খাদিজা (সা.আ.)-এর কথা স্মরণ করে এমনভাবে ক্রন্দন করতেন যে তার দু'চোখ বেয়ে অশ্রু ঝড়তো।

কারণ, রাসূল (সা.) হযরত খাদিজা (সা.আ.)-এর গভীর ভালবাসা ও দয়ার ঝর্ণাধারাকে অবলোকন করেছিলেন। হযরত খাদিজা (সা.আ.)-এর প্রতি নবীজির (সা.) এই ধরনের আচরনের কথা ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। :

 ্উল্লেখ আছে যে, রাসূল (সা.) হযরত খাদিজা (সা.আ.)-এর প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু হলে, রাসূল (সা.) এত বেশী স্পর্শকাতর হয়ে উঠতেন যে, তাঁর দু'চোখ থেকে অশ্রু ঝরত।

হযরত আয়েশা তাঁকে বললেন: "আপনি কাঁদছেন কেন? একজন বয়োঃবৃদ্ধ মহিলার জন্য এভাবে কাঁদতে হবে?" রাসূল (সা.) প্রতিত্তোরে বললেন:

যে সময় তোমরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলতে সে সময় সে আমাকে সত্যবাদী হিসেবে মেনে নিয়েছিল ও যে সময় তোমরা কাফির ছিলে সে সময় সে আমার প্রতি ঈমান এনেছিল, সে আমাকে সন্তান দান করেছে আর তোমরা তো বন্ধ্যা।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha